সাম্প্রতিক স্পেন ভ্রমনঃ কিছু ব্যক্তিগত উপলব্ধি

ছোট বেলায় যখন সাইমুম সিরিজের বই পড়তাম ঠিক তখন থেকে মনের মধ্যে স্পেন ভ্রমনের স্বপ্ন বাসা বাঁধে। গ্রানাডার আর্তনাদ কিংবা কর্ডোভার ছবি মনের মধ্যে ভেসে উঠত নিজের অজান্তে। কিন্তু সেই প্রত্যন্ত গ্রামের লালিত স্বপ্ন কখনও পূরণ হবে তা কখনই ভেবে দেখিনি। কিন্তু সৃষ্টি কর্তার কি অপার করুণা তার পরিকল্পনা বুঝার সামর্থ্য কারও নেই। যেদিন বাংলাদেশ থেকে সুইডেন এ পারি দিলাম সেদিনই হয়তো জীবনের অবচেতন মনের লালিত স্বপ্ন গুলোর পূরনের শুরুটা হয়ে গিয়েছিলো।

আর স্পেন ভ্রমনের প্রস্তাবটা আসলো হঠাৎ করেই। হঠাৎ আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় সাইফুল ভাইয়ের স্পেন ভ্রমনের প্রস্তাব সহ বার্তা। সেনাপতির ডাকে সৈনিকেরা যেমন যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠিক তেমনি সাইফুল ভাইয়ের মেইল মানে কিছু একটা ঘটতে যাওয়া, ব্যস সবাই রাজি হয়ে গেলো।তারিক বিন যিয়াদ কিংবা মুসা বিন নুসাইর এদের নাম শুনলেই মনটা চলে যায় কল্পানায়, কেমন ই বা ছিলেন উনারা যাদের স্পর্শে পৌত্তলিক স্পেন থেকে হয়েছিলো ইসলামিক স্পেন । আর এই স্পেনকে কেন্দ্র করে ইসলামের সুবাতাস ছড়িয়ে পড়েছিলো গোটা ইউরোপে।

দশজনের একটি দল নিয়ে আমরা বেরিয়েছিলাম স্পেন ভ্রমনে, মনে হচ্ছিলো স্পেন জয় করতে যাচ্ছি। যাত্রাপথের অপরূপ সৌন্দর্য্য সবাইকে বিমোহিত করে তুলেছিলো। রাস্তার দু-ধারে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সারি সারি জলপাই আর কমলা গাছের বাগান। জলপাই গাছগুলো দেখার সাথে সাথে কানে ভেসে উঠছিলো কুরআনের সেই জয়তুন শব্দটি। কি অপুর্ব এক অনুভূতি, মনেহচ্ছিলো হারানো কিছু ফিরে পেয়েছি কিংবা নিজেদের জায়গায় চলে এসেছি। শহরের ভিতর রাস্তার দু-ধার দিয়ে শুধু ই কমলার গাছ। মনেহয় আল্লাহ অশেষ দানে ভরিয়ে দিয়েছেন স্পেনকে। আমরা মূলত মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী কিছু জায়গা দেখার সুযোগ পেয়েছি। গ্রানাডা, কর্ডোভা, নাসরিড প্যালেস, আল কাজাব এসব জায়গায় গিয়ে যেমন কষ্ট পেয়েছি তেমনি তেমনি অভিভূত হয়েছি বিল্ডিং গুলোর সৌন্দর্য দেখে। কর্ডোভার বিশাল মসজিদ যা এখন ক্যাথেড্রাল এ পরিনত করা হয়েছে, সেটি দেখে আমরা কিছুক্ষন নিশ্চুপ হয়্ব যাই। তার সামনে কমলা গাছের বাগানে বসে জিড়িয়ে নেই কিছুক্ষন মসজিদে ঢোকার প্রস্তুতি আর কি। ঢুকতে হবে আবার টিকেট করে। যেই গেইটে গিয়েছি প্রশ্ন করা হলো মুসলিম কিনা? মুসলিম হলে ভিতরে সালাত আদায় করা যাবে না এমনকি মেঝেতে বসা ও যাবে না। সত্যিই তখন কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছিলো, আমাদের মসজিদ আবার আমাদের কাছ থেকে চাদা নেয় আবার আমাদের ই বলে যে সালাত আদায় করা যাবে না, অথচ ভিতরে ঢুকে দেখি খ্রীষ্টান রা তাদের ধর্ম পালন করছে। ভিতরে ঢুকে সবাই অবাক সেই মিম্বার মেহরাব এখন ই অবিকল সেরকম ই আছে। না শুধু মুসলিমদের চেতনা বোধ। নাসরিদ প্রাসাদ ও আল কাজাব এর দেয়াল জুড়ে ততকালীন মুসলিমদের কারুকার্য আর আরবী হরফের ও কুরআনের আয়াতের ক্যালিওগ্রাফী সেদিনের মুসলিম সুদিনের কথাই মনে করে দেয়। এসব দেখে স্পেন এ মুসলিমদের পরাজয়ের কারন নিয়ে আমি একটু চিন্তায় মগ্ন হলাম। তেমনি চিন্তা হতে লাগলো ভারতে বর্ষে মুসলিমদের পরাজয়ের কারন নিয়ে। যেখানে মুসলিম দের ঈমান ও আখলাক দেখে আমাদের অভিভূত হওয়ার কথা সেখানে আজ আমরা মুসলিমদের কিছু ঐতিহ্য দেখে আত্নতুষ্টি লাভ করছি। অথচ মুসলিদের তৈরী করা জিনিস দেখিয়ে পয়সা কামাই করছে অন্যধর্মের লোকজন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মুসলিমদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সব কিছু দেয়ার জন্য। আসলে উনি দিয়েছিলেন ও তাই আমরা রাখতে পারিনি। যখন মুসলিমদের আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কোন রাজ্য দান করেন তখন মুসলিমরা দ্বীন ইসলামকে ছড়িয়ে না দিয়ে প্রাসাদের কারুকার্য তৈরী আর ভোগ বিলাসে মত্ত থাকতো।

ইসলামের প্রারম্ভিক যুগে যখন ইসলাম বিজয় লাভ করতে লাগলো সবখানে তখন আল্লার অনুগ্রহ ও জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত বান্দারা দুনিয়া ও আখেরাত দুটি জিনিস পেয়েও ক্ষান্ত হয়ে বসে থাকেননি। ছুটে বেরিয়েছেন দ্বীনকে প্রতিষ্ঠার কাজে। কেউ ইসলাম গ্রহন করলে নবী (সঃ) বলতেন দারিদ্রতাকে মেনে নেয়ার জন্য। অথচ আজকে ইসলামী সংগঠনের লোকদের দিকে তাকালে দেখা যায় উনারা টাকা দিয়ে সামাজিক প্রতিপত্তি দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে চান। সম্পূর্ণ একটি উল্টো প্রটোকল দিয়ে কোন সফল পরীক্ষা করা সম্ভব নয়। আগে ভোগ তারপর দ্বীন এরকম নীতি নিয়ে কখন ই মুসলিম রা বিজয়ী হয়নি, আর ইসলাম ও এভাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেনি। আগে সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠা তারমানে দুনিয়াদারী তারপর আখেরাত এর ব্যবস্থা এই নীতি নিয়ে কখন ই ইসলামী সংগঠনকে বিজয়ী করা সম্ভব না, আর বিজয়ী করা গেলেও ইসলাম কে তার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। আমি কখনি ই বলিনা যে সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা করতে হবে না। অবশ্যই তা করতে হবে কিন্তু সাংগাঠনিক প্রয়োজন কিংবা ইসলামের প্রয়োজনের চেয়ে যখন সামাজিক প্রতিপত্ত অর্জন বেশি অগ্রাধিকার পায় তখনি কেবল একটি আশাংকা হয় যে মনের মধ্যে ভোগের ঘুমন্ত বাসনা আবার জেগে না উঠে। আর হয়ত উঠছে ও আর তাই অনেক টাকা ওয়ালা ক্ষমতা ওয়ালা ইসলামিক লিডার দেখা যায় কিন্তু সবকিছু আগের মত ই থেকে যায়। ভারত বর্ষে মুসলিমরা প্রায় ৬০০ বছর শাসন করার পরে ও ভারতে ইসলামের তেমন কোন কাজ ই করেনি, তেমন কিছু চোখে ই পড়েনা অথচ সেখানে স্পেনে খ্রীষ্টানরা পুরো চেহারাই পাল্টে দিয়েছে আর এটা করতে পেরেছে কারন তারা যা বিশ্বাস করে তাই তারা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে সেটা দুদিন পরে হলে ও, সেখানে আমরা এমন মুসলমান যে আমাদের বিশ্বাস টা কি, কেমন সেটাই ঠিক মত বুঝে উঠতে পারি না বা পারি নাই। আমরা বিশাল বিশাল প্রাসাদ নির্মান করেছিলাম, আমরা বিশাল বিশাল মসজিদ নির্মান করেছিলাম, কিন্তু আসল কাজটাই করা হয়নি। শরীর ও মনটাকে যে মুসলিম বানাতে হবে সেটাই করতে পারিনি। আর পারিনি বলে আমরা সেই দুষিত মন নিয়ে এই দুনিয়ায় ও আল্লাহর রহমত থেকে বিতাড়িত হয়েছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আদম (আঃ) ও বিবি হাওয়া কে জান্নাত থেকে বের করে দিয়ে আমাদের যে শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন আমরা তা নিতে পারিনি। আল্লাহ আমাদের বার বার তার রহমতের ছায়ায় স্থান দিচ্ছেন কিন্তু আমরা উপলব্ধি করতে পারিনা যে সব ঘটনার মধ্যে একটি গভীর মিল বর্তমান আর তা হলো বান্দার প্রতি আল্লার ওয়াদা সেটা ভালো হোক আর শাস্তিমূলক ই হোক তা বান্দারা চাক্ষুস দেখতে পাবেই। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের বার বার শাসন ক্ষমতা দিয়ে তার আুনুগ্রহের পরিচয় দিয়েছেন , দিচ্ছেন। কিন্তু ভোগের চিন্তায় মসগুল আমরা বুঝতেই পারিনা যে আমাদের দায়িত্ব কোনটি। দেখে মনেহয় সবাই ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মশগুল। সবাই জান প্রান ঢেলে দিচ্ছেন ইসলামের জন্য কিন্তু ফল পাওয়া যাচ্ছেনা কারন যে জন্য জান ও মাল ঢালা দরকার সেটার জন্য করা হচ্ছে না। আগে জান ও প্রান ঢালতে হবে একজন পূর্ণাংগ মুমিন হওয়ার জন্য। দ্বীনের কাজ করতে হবে আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্য। কিন্তু আমরা উল্টোটা করছি। দ্বীন প্রতিষ্ঠার আগে যোগ্য মানুষ তৈরী করতে হবে সংগঠনের বইয়ে পড়েছিলাম। আমার কাছে মনেহয় সেই যোগ্য মানুষগুলোর স্থান সাথী ও সদস্যরা কেনো জানি পূরণ করতে পারছে না। হয় এটা তদের ই অযোগ্যতা নতুবা সাথী ও সদস্য হওয়ার সিস্টেমের সমস্য এটা খুজে বের করা খুব ই প্রয়োজন তা না হলে কাংখিত সফলতা বা দ্বীন প্রতিষ্ঠা সম্ভব না, চীন মৈত্রী সম্মলন কেন্দ্রে সম্মেলন আয়োজন করতে হবে না হলে সন্মান যাবে, এসব মানসিকতা তৈরী হতনা। রাসুল (সাঃ) খেজুড় পাতার প্রাসাদে বসে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন, উমর (রাঃ) এর মতো মানুষেরা রাতের বেলায় খাবার কাধে নিয়ে বেরিয়েছেন। অথচ আমরা মৌলিক প্রয়োজন বঞ্চিত মানুষের চিন্তা না করে আমরা সন্মানের চিন্তা করি। আমাদের বিশাল বিশাল বিল্ডিং দেখা যায় অথচ অনেক মানুষ রাস্তায় ঘুমায়, আমরা মিছিল করে ভুনা খিচুরী খাই অথচ অনেক মানুষ না খেয়ে থাকে। ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে হলে আগে মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও ত্যাগ কে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নতুবা মিথ্যা আবেগ দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। ঢাকায় গিয়ে ঢাকা দখলের চিন্তা না করে আগে মানুষের হৃদয় দখলের চিন্তা করতে হবে তাহলে এমনিতেই ঢাকা দখল হবে। যারা শপথ নিয়েছিলেন দ্বীন হবে জীবনেদ্দশ্য তাদের সেই উদ্দেশ্য কি আজ ও বর্তমান আছে একটু চিন্তা করা দরকার। যেখানে নবী করীম (সাঃ) ও সাহাব (রাঃ) রা ইসলামের জন্য সম্পদ ত্যাগ করেছেন ত্যাগ করেছেন সামাজিক অবস্থান সেখানে আমরা এসব আকড়ে ধরে রাখছি আবার ইসলাম ও কায়েম করতে চাচ্ছি। আসলেই কি এভাবে সম্ভব ???
আমার কেনো জানি মনেহয় কোথাও একটি ভূল আছে, হয় আমাদের শিক্ষার মধ্যে না হয় আমাদের উপলব্ধির মধ্যে।

আমার সংগঠন ভাবনা।

ছোট বেলা থেকে একটু লাজুক টাইপের ছিলাম। পাশে যেদিন ফুফুর বাসায় বেরাতে যেতাম, ফুফাতো ভাইয়ের টেবিলে চোখ চলে যেত। সাইমুম সিরিজ এর বই আর ইরান এর ম্যাগাজিন নিউজ লেটার বই হাতে চুপচাপ পড়া শুরু করতাম। সেই থেকে ইসলামী ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামী কালচার এর বিষয়ে একটু আধটু আগ্রহ জন্মানো শুরু হলো। আমি আমার সেই ক্লাশ থ্রি-ফোর এর কথা বলছি। এরপর বড় হতে থাকলাম মসজিদে যাতায়াত আস্তে আস্তে বাড়তে থাকল। একটি ব্যাপার লক্ষ্য করলাম আমার মহল্লার কিছু ভাই শুত্রুবার বিকেলে বসে কি যেন আলোচনা করতেন। তবে আমাকে কেউ কখন ও ডাকেনি। ব্যাপারটি আমি তখন বুঝতেই পারিনি আর বুঝার ও চেষ্টা করিনি। ফ্যামিলি একটু ইসলামিক হওয়ার কারনে মসজিদে যাতায়াত এগুলো ছিলো। আমার আম্মা যখন ছোট তখন নানা, নানী আর আমার সেই ছোট আম্মু হজ্জ্ব করে এসেছিলেন, সেই ১৯৬০ সালের দিকে। যাহোক, যখন সাইমুম সিরিজ , দস্যু বনহুর , দস্যু পাঞ্জা, ক্রুসেড সিরিজ বইগুলো পড়তাম কেমন জানি বইয়ের চরিত্রগুলো নাড়া দিয়ে যেত। সাইমুম এর আহমাদ মুসা ব্যাপক নাড়া দিলো। এভাবে স্কুল , কলেজ শেষ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম। হলে উঠতে গিয়ে ও উঠা হলোনা আমার বন্ধুর বড় ভাইয়ের কারনে। উনি বললেন যে না হলে থাকা লাগবে না, তোমরা মেস এ চলো। ভাগ্য ভালো ই বলতে হবে, আমরা ক্লাশ শুরু করার একমাস পর ২০০১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ মারামারি শুরু হলো। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্টেশন বাজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হলো। যাহোক হলে না উঠার উপকারীতা একটু উপলব্ধি করলাম। উঠেছিলাম মির্জাপুর মসজিদ এর ছাত্রাবাসে। মসজিদ আর ছা্ত্রাবাস একেবারে লাগানো। মসজিদে ইকামাত দিলে রুম থেকে শোনা যেত। এক অলস ভাই ছিলেন উনি আবার মাঝে মাঝে নিজের রুম থেকে মসজিদের সাথে জামায়াত বদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করতেন। মসজিদে নামাজ যারা পড়তে আসতেন উনারা বেশির ভাগ ই ছিলেন আবার বাংলাদেশ আহলে হাদীস এর লোক, আমাদের ছা্ত্রাবাস এর নাম ছিলো “ছালাফিয়া ছাত্রাবাস”। মসজিদের মসজিদের ঈমাম ও মুয়াজ্জিন আমাদের মেস এ থাকতেন। মাঝে মাঝে উনাদের সাথে ইসলামিক বিষয়ে আলোচনা হত। উনারা শুধু বিদয়াত বিদয়াত বলতেন, এসব দেখে বুখারী শরীফের ২ খন্ড কিনে নিয়ে আসলাম উনাদের সাথে তর্ক করার জন্য। এই তর্ক ই আমার জীবনের জন্য ভালো হয়ে দাড়ালো। সেখান থেকে মুলত ইসলামের বেসিক খুটিনাটি বিষয়গুলো এবং কুরআন ভালো ভাবে শেখা শুরু হলো।
৩ বছর পর হলে সিট পেলাম , সৈয়দ আমীর আলি ৩৪৫ নং রুম এ সিট হলো। রুমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ব্লক সভাপতি আর একজন সাবেক সদস্য ভাই, আর এক সিট আর একজন ছিলো। যাহোক হল এর জীবন শুরু সাথে সাথে নিজের অজান্তেই শুরু হলো সংসঠনের সাথে পথ চলা। আমি রোজ ফজরের নামাজে ডেকে দিতাম শিবিরের দুভাইকে , আমি নিজে আগে থেকে নিয়মিত নামাজ কুরআন পড়তাম। এশার নামাজ পড়ে দেখতাম কিছু ছেলে বসে কি যেন আলোচনা করে। একদিন বসার জন্য ডাক পেলাম, মসজিদের ভেতরে বসলাম। তারপর নিয়মিত বসতে বলত খারাপ লাগত না। আমিও বসতাম। দেখতাম একটু বসার পর বলা হতো, কর্মী ভাইয়েরা চলে যান, সাথী ভাইয়েরা বসেন। আমি আবার ভাবতাম এটা আবার কেমন হলো আমাকে উঠতে হলো আমার চেয়ে জুনিয়র ছেলেরা বসে আছে এতো লজ্জার কথা। ইতোমধ্যে একটি ব্যক্তিগত রিপোর্ট বই ও টেবিলে হাজির হলো। বইয়ের ঘরগুলো খারাপ ছিলোনা রেখে দিলাম। একদিন জিজ্ঞেস করলাম সাথী হলে কি করতে হবে? জানতে পারলাম কিছু ইসলামিক বই পড়তে হবে আর নামাজ, কুরান নিয়মিত পড়তে হবে। যাহোক আমি এমনিতে বই পড়তে ভালোবাসতাম। আর নামাজ ও কুরআন আগে থেকে ই পড়তাম সুতরাং বেশি সময় নিলাম ওখানে বসার যোগ্যতা অর্জন করতে। আমি জেনারেল লাইন এর ছাত্র হলে আরবি লিখতে ও পড়তে পারতাম আর তাই আরবিতে হাদিস গুলো খুব দ্রুত মুখস্ত হয়ে গেলো। তবে বই গুলো পড়তে গিয়ে মূলত ইসলামিক জীবন ব্যবস্থার একটি মুটামুটি পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করলাম। বই পড়তাম আর সংগঠনের সাথে মিলাতাম আর কোন ব্যতিক্রম দেখলেই অভিযোগ করতাম। এভাবে চলছিল আমার সাংগাঠনিক জীবন। সদস্য হওয়ার টার্গেট নিলাম পড়াশুরু করলাম। ও একটি কথা বলে রাখা ভালো আমি কিন্তু একটি ভালো সাবজেক্টে পড়তাম। হঠাৎ একটি অঘটন ঘটলো তখনকার বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি জেলে চলে গেলেন। দায়িত্বপেলেন বক্তৃতায় ভালো পারদর্শী আর একজন। যাহোক ইতোমধ্যে আর ও একটি দূর্ঘটনা ঘটল, যেটার কারনে আমি খুব ই আপসেট হয়ে পরলাম, এবং কিছুটা সাংগাঠনিক কাজ কমিয়ে দিয়ে, সদস্য হওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখে পড়ালেখায় মনযোগ দিলাম। এবং আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো ফল ও পেয়েছি।

আমার সাংগাঠনিক ভাবনার প্রারম্ভিক কিছু আলোচনা করলাম। আসল আলোচনা এখন শুরু করব। ইনশাল্লাহ।

আমি যেদিন থেকে ইসলামী বই পড়া শুরু করলাম, যেদিন থেকে ইসলামের প্রারম্ভিক কালের মুসলিমদের জীবনী জানা শুরু করলাম এবং যেদিন থেকে ইসলামী একটি সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হলাম, সেদিন থেকে একটি সমীকরণ মিলানোর চেষ্টা করেছি। আর সেটা হলো

কুরআন + হাদীস = ইসলামের বিজয়।

যেখানে ব্যতিক্রম দেখেছি অভিযোগ করেছি। কিন্তু আমার কাছে একটি জিনিস মনে হয়েছে। হয়ত আমার ভূল ও হতে পারে আর তা হলো যারা ইসলামিক সংগঠন করেন তাদের বেশির ভাগের মধ্যে ইসলাম এর সঠিক বুঝ এর অভাব আছে। বেশির ভাগ ই না বুঝে আবেগ দিয়ে সংগঠন করে। আর আবেগ দিয়ে সংগঠন করতে গিয়ে সাংগাঠনিক আনুগত্য হয়ত ঠিক ই হয় কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ই আল্লাহর আনুগত্য থেকে বিচ্যুতি ঘটে। আর এই বিচ্যুতি জেনারেশন টু জেনারেশন চলার কারনে এখন একটু বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে আর হওয়াটাই ইসলাম তথা সবার জন্য ভালো। তার আগে একটি কথা বলে নেই। যারা সংগঠনের গঠনমুলক সমালোচনা কে সংগঠন বিরোধী মনে করেন তাদের বলব আবেগ টা একটু কমিয়ে দিতে। কেউ যদি আল্লার পথে সঠিক নিয়ত নিয়ে চলে তার লজ্জার কি আছে আর ভয় বা কি?? আমার লক্ষই ই যদি হবে জীবনেদ্দেশ্য তাহলে টাকা পয়সা আর সামাজিক প্রতিপত্তির উপর এতো আগ্রহ কেন? অবশ্যই আগ্রহ থাকতে হবে, তবে আগ্রহটা যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উপরে স্থান পায় তাহলে সমস্যা। সমস্যা হলো তখন ই শরীয়তের বরখেলাফ হয়, তখনি মানুষ বিচ্যুত হয়, বিচ্যুতি ঘটে।

দ্বীন ইসলামকে প্রতিষ্ঠার যে ত্যাগ সে ত্যাগ হয়ত অনেকেই করছে, তাদের সালাম জানাই। কিন্তু শহীদ শহীদ বলে সেসব শহীদের রক্তের উপর দাড়িয়ে যে সংগঠন, যে সংগঠনের হুংকারে আজ বাংলার মাটি কাপার কথা সেখানে আজ দুর থেকে দৃশ্যমান এক প্রদীপ ই মনে হয়। কারন আমার সংগঠন ভাবনা অনুযায়ী এসব দিয়ে সঠিক দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব না। কৌশলের নামে যদি মিথ্যার সাথে আপোষ করতে হয় সেখানে সত্যের গায়ে কিছুটা কালিমা লেগে ই যায়। আজ অনেকেই আজ ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। কারন সামাজিক ভাবে প্রতিপত্তি অর্জন না হলে নাকি ইসলাম প্রতিষ্ঠা হবে না। মনেহয় ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য আল্লাহর কাছ থেকে টেন্ডার কিনেছে।

যে ইসলাম প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে ত্যাগ আর ভালোবাসার মাধ্যমে সেখানে ক্ষমতা আর প্রতিপত্তি দিয়ে নতুন করে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব না। সম্ভব তখনি যখন ইসলামের রঙ্গে রঙ্গিন হয়ে মানুষের দুয়ারে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে যাওয়া হবে ভালোবাসা আর ত্যাগের এক অপূর্ব নিদর্শন হয়ে। মনের মধ্যে ভোগের বাসনা রেখে কখন ই মানুষের ভালোবাসা আদায় সম্ভব না।

আমি সেই সংগঠনের স্বপ্ন দেখি যেটি ইসলামের রঙ্গে রঙ্গিন। যার কর্মী বাহিনীর মাঝে ইসলামী মুভমেন্ট এবং পলিটিক্স এর পার্থক্যের সম্যক ধারণা থাকবে। যাদের মাঝে ভোগ আর বিলাসিতার পরিবর্তে ত্যাগ আর ভালোবাসা স্থান লাভ করবে। যারা সবক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দিতে পারবে। কোন পার্থিব বিষয়কে নয়।

রোহিঙ্গা , আরাকান ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ।

বর্তমান সময়ে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো রোহিঙ্গা ও বার্মিজদের জাতিগত দাঙ্গার বিষয়টি। প্রায় দীর্ঘদিন যাবৎ রোহিঙ্গা শুধু মায়ানমার এর সমস্যা না, এটি এখন বাংলাদেশের ও সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বাংলাদেশ এমনিতেই নুঁয়ে পরেছে, জনসংখ্যার চাপের ফলাফল রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে সমাজব্যবস্থার সবখানেই পরিলক্ষিত হচ্ছে। আর এরুপ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুটি সামনে আসায় নতুন করে ভাবার সময় এসে দাঁড়িয়েছে।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর সাহায্যের হাত বাড়িয়ে না দিলে, খ্রীষ্টান মিশনারীরা এই সুযোগ গ্রহন করবে। জীবন সংগ্রামে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একটি বৃহৎ খ্রীষ্টান আরকান রাষ্ট্রের পরিকল্পনা, সাম্রাজ্যবাদী খ্রীস্টান রাষ্ট্রগুলোর নিয়ে থাকবেনা এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এরূপ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের উচিৎ সর্বোতভাবে রোহিঙ্গাদের সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দেয়া অথবা আরাকান , ভারতের পশ্চম বঙ্গ , আসাম ও সেভেন সিস্টার নিয়ে একটি বৃহৎ বাংলা রাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা

একজন মানুষের ব্যক্তি জীবনে যেমন মিশন ও ভিশন থাকা প্রয়োজন তেমনি একটি জাতি রাষ্ট্রেরও ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবেলায় একটি মিশন , ভিশন ও টেকসই প্লান থাকা নিতান্তই প্রয়োজনীয়। আর আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে কারন কিছু মানসিকভাবে দেউলিয়া সম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও সুবিধাভোগী বুদ্ধিজীবি সমাজ, স্ব-স্বীকৃত শিক্ষিত সমাজ ও স্বঘোষিত দেশপ্রমিক এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের পরিচালকদের ভূমিকা দায়িত্বপ্রাপ্ত।

সাম্রাজ্যবাদী ভাইরাস এখন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশকে রোগাক্রান্ত করে ফেলছে ফলে ভাইরাসের সংক্রমনে ক্রমশঃ আমরা চিন্তিত। শুধু পার্শ্ববর্তী দেশই নয় ভূ-রাজনৈতিক কারনে ও এখন আমরা চিন্তিত, সাম্রাজ্যবাদী ভাইরাসের সংক্রমনের জন্য উৎকন্ঠিত। চারপাশে শত্রুবেষ্ঠিত মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশের সামনে টেকসই পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগুনো ছাড়া গতান্তর নেই। আর এজন্য প্রথমে আত্নমর্যাদা সম্পন্ন বাংলাদেশি ও ইসলামী ভাবধারার মানুষদের সমন্বয়ে একটি সু-শৃংখল ও শক্তিশালী দল গঠন সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরপর যে জিনিসটি মাথায় নিয়ে এগুতে হবে তা হলো। সাম্রাজ্যবাদীদের কাউন্টার প্লান হিসেবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির পূর্বের মানচিত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসা। আর তা হলো- বাংলা , বিহার ও উরিষ্যার সমন্বয়ের সাথে সাথে ভারতের সেভেন সিষ্টার ও মায়ানমার এর আরাকান রাজ্য নিয়ে একটি বৃহৎ বাংলা গঠনের পরিকল্পনা ও ভিশন নিয়ে কাজ করা। সেক্ষেত্রে আমার প্রস্তাবিত নতুন বাংলার মানচিত্রটি নিচে তুলে ধরলাম।

মানচিত্রে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত অংশ হবে প্রস্তাবিত বৃহৎ বাংলাদেশ। প্রস্তাবিত নতুন বাংলাদেশের রাজ্য হবে তিনটি যথাক্রমে-ক) মধ্য বাংলা/ সেন্ট্রাল বাংলা , রাজধানী-ঢাকা, খ) পশ্চিম বাংলা, রাজধানী-জিয়া নগর, গ) পূর্ব বাংলা, রাজধানী-মুজিবনগর। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ নতুন বাংলাদেশের অধীনে থাকবে। এক্ষেত্রে বিশাল বঙ্গোপসাগরের অধিকার যেমন হস্তগত হবে তেমনি আরব সাগরে বাংলাদেশের নজরদারী করতে পারবে। দক্ষিন এশিয়ায় আর একটি শক্তিশালী মুসলিম রাষ্ট্রের প্রয়োজন সময়ের দাবি। আর সে দাবি পূরনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এখন ই শুরু করা প্রয়োজন।

ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজিদের দ্বারা যে মুসলিম রাজ্যের সূচনা। সম্রাট বাবর , জাহাঙ্গীরদের দ্বারা যে মুসলিম ভূ-খন্ড লালিত পালিত হয়েছে, সেই মুসলিম ভূ-খন্ডের সাথে সাথে নবাব আলীবর্দি খাঁন ও নবাব সিরাজ-উদ্দৌল্লাদের দ্বারা যে বাংলা সুশাসন ও সমৃদ্ধিতে বিকশিত হয়েছিলো সেই বাংলার স্বপ্ন একজন বাংলাদেশ প্রেমিক ও ইসলাম প্রেমিক দেখতেই পারে। হয়ত একদিন মীরজাফরদের ভূতকে তাড়িয়ে দিয়ে বাংলার সিংহ শাবক রা মাটির পুতুলকে বশে নিয়ে আসবে। সেই স্বপ্নকে সেই লক্ষ্য কে ধারন করেই একজন বাংলাদেশি মুসলিমের কাজ করা উচিৎ।

কনে দেখার তিক্ত অভিজ্ঞতা।

প্লান ছিলো এবার ঈদ-উল-ফিতর এ দেশে ফিরব।ঈদ করার সাথে সাথে কনে ঠিক হলে বিয়ে করার চিন্তাও মাথায় ছিলো কিন্তু মানুষ ভাবে এক আর হয় আর এক। সেটা ঘটে বসল হুট করেই।

২৬ জুন প্রতিদিন এর মতো ল্যাব এ কাজ করছি হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে মেসেজ আসলো আমাদের দাদিমা আমাদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে গিয়েছেন। মাথায় চিন্তা আসলো যে চেষ্টা করে দেখি দেশে যাওয়া যায় কিনা। আমার প্রিয় দাদিমার মুখখানা দেখতে না পারি অন্তত কাছে গিয়ে দু-হাত তুলে দোয়া তো করতে পারবো, বাসার লোকজন কে একটু সময় দিতে পারব। ঈদ আর বিয়ের চেয়ে দাদিমার চিন্তায় মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগলো। যেই ভাবা সেই কাজ। বিভিন্ন ট্রাভেলস এজেন্সিকে ফোন দিলাম কিন্তু ২৬ জুনের টিকেট পেলাম না। সুতরাং পরের দিন সকালে বাংলাদেশের উদ্দেশ্য রওয়া দিলাম।

দাদির সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে না করতে বাসায় বিয়ের প্রসঙ্গটি তোলা হলো। দু – আন্টির দু-মেয়ের জন্য বাসায় ওকালতি শুরু হলো। সমস্যা হলো দু-জনেই কেবল ডেন্টাল দ্বিতীয় বর্ষে পড়ে। তারপর ও আম্মা ও আব্বার খুশির কথা ভেবে বিষয়টি বিবেচনায় নিলাম। একজনের সাথে কথা বললাম। মেয়ের সাথে কথা বলার পরের দিন ফোন আসলো যে তার প্রেম আছে একজনের সাথে ….মেয়ের প্রেমিক ও আবার ফোন করা শুরু করলো। সিদ্ধান্ত নিলাম ব্যাপারটি মেয়ের ফ্যামিলিকে জানানো দরকার। বড় আপুকে নিয়ে মেয়ের ফ্যামিলিকে যেই জানালাম অমনি মেয়েটিকে শারিরিক নির্যাতন শুরু করলো।

এসব দেখে মেয়েদের প্রতি বিশ্বাস দিন দিন ফিকে হয়ে আসছে….আর এর সাথে সাথে বিয়ের প্রতি কেন জানি অনিহা সৃষ্টি হচ্ছে……..মাঝে মাঝে নিজের প্রতি বিশ্বাস ও হারিয়ে ফেলছি…….জানিনা এটি আমার সরলতা, অনিহা নাকি আমার মনের কুটিলতা। যাই হোক সামনে এগুতে্ই হবে এটিই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

বিবাহযোগ্য মেয়েদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

ধর্ম ব্যবসায়ী ও মুনাফিকঃ প্রেক্ষিত ছাত্রলীগ ও ছা্ত্রশিবির একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা।

কারা ধর্ম ব্যবসায়ীঃ
যারা ধর্মকে ব্যবসায়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আর্থিক ও বৈষয়িক বিষয়ে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করে তারাই মূলত ধর্ম ব্যবসায়ী।
আমাদের সমাজের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় কিছু ব্যক্তি ধার্মিক কিছু অধার্মিক আর কিছু ব্যক্তি বকধার্মিক। ধার্মিক ও অধার্মিকের মাঝের এই শ্রেনীটিই মূলত ধর্মব্যবসায়ী। এরা ধর্মীয় নামে নিজেদের পরিচয় দেয়, নিজেদের কে ধার্মিক বলে পরিচয় দিয়ে সুবিধা আদায় করে।

কারা মূনাফিকঃ কুরাআনের বিভিন্ন জায়গায় মুনাফিক এবং মুনাফিকের পরিচয় সম্বন্ধে বলা হয়েছে।মুনাফিক তাকেই বলে যার মধ্যে নিফাক রয়েছে। আর নিফাক বলে উহাকে যার ভিতরের অবস্থা বাহ্যিক প্রকাশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মুনাফিকের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ বলেন

১) তারা যখন ঈমানদার লোকদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে আমরা ঈমান এনেসি। কিন্তু নিরিবিলিতে যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একত্রিত হয়, তখন তারা বলেন, আসলে আমরা তোমাদের সঙ্গেই রয়েছি, আর তাদের সাথে আমরা শুধু ঠাট্টাই করি মাত্র। (বাকারা-১৪)।

২) তাদেরকে যখন বলা হয় যে, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সেইদিকে এস ও রসুলের নীতি গ্রহন কর, তখন ও মুনাফিকদেরকে আপনি দেখতে পাবেন যে, তারা আপনার নিকট আসতে ইতস্ততঃ করছে ও পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে। (নিসা-৬১)

৩) যে সব মুনাফিক ঈমানদার লোকদের বাদ দিয়ে কাফের লোকদেরকে নিজেদের বন্ধু ও সঙ্গীরূপে গ্রহন করে, তাদেরকে এ সুসংবাদ শুনিয়ে দিন যে, তাদের জন্য তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি নির্দিষ্ট রয়েছে। উহারা কি সন্মান লাভের সন্ধানে তাদের নিকটে যায়? অথচ সন্মানতো একমাত্র আল্লাহরই জন্য। (নিসা ১৩৮-১৩৯)।

৪) হে নবী! কাফির ও মুনাফিক উভয়ের বিরুদ্ধে পূর্ণ শক্তিতে জিহাদ করো এবং তাদের সম্পর্কে কঠোর নীতি অবলম্বন কর। শেষ পর্যন্ত তাদের পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম, আর তা অত্যন্ত নিকৃষ্ট স্থান। ( তওবা-৭৩)।

মুনাফিকের পরিচয় সম্পর্কে হাদীসঃ
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (সাঃ) বলেন, মুনাফিকের আলামত তিনটি (১) কথা বললে মিথ্যা বলে (২) ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে (৩) আর তার কাছে কোন আমানত রাখলে তার খেয়ানত করে। (বুখারী)

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত নবী (সঃ) বলেন, চারটি দোষ যার মধ্যে থাকে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে উক্ত দোষগুলোর কোন একটি থাকে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে উক্ত দোষগুলোর কোন একটি থাকে, তা ত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফেকীর একটি স্বভাব থেকে যায়। (১) তার কাছে কোন আমানত রাখলে সে তার খেয়ানত করে (২) সে কথা বললে মিথ্যা বলে (৩) ও্য়াদা করলে তা ভঙ্গ করে (৪) আর সে ঝগড়া করলে গালাগালি দেয়। (বুখারী)

৩) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসুলে খোদা (সঃ) বলেছেন, এমন দুটি গুণ আছে যা মুনাফিকের মধ্যে একত্র হতে পারে না। (১)সুস্বভাব (২) দ্বীনের যথার্থ জ্ঞান। (মিশকাত)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষ সৃষ্টি করার পর তাদের কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে আমি কি তোমাদের রব নই, সবাই বলেছিলো যে হ্যা তুমি ই আমাদের রব। আল্লাহ কে রব হিসেবে মেনে নিয়ে তার দেয়া নিয়ামত ভোগ তার সাথে বেয়াদবী করা প্রতারনাই নামান্তর। মূলত প্রতিটি মানুষ আল্লাহর নিকট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আল্লাহর নিয়ামতের অস্বীকার ই মূলত মুনাফিকের পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করে তাদের জন্য নবী রাসুল পাঠিয়েছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে মুসলিম জাতির পিতা হিসেবে প্রেরণ করেছেন।

“তিনি (আল্লাহ ) তোমাদেরকে পছন্দ করছেন এবং ধর্মের ব্যাপারে তিনি তোমাদের ওপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি। তোমরা তোমাদের বপিতা ইব্রাহীমের ধর্মে কায়েম থাক। তিনিই তোমাদের নাম মুসলমান রেখেছেন। পূর্বেই এবং এই কুরআনেও যাতে তোমাদের জন্য রাসুল সাক্ষ্যদাতা হয় আর তোমরা মানবমন্দলীর জন্য সাক্ষ্যদাতা হও। (হজ্জ-৭৮)।

ছাত্রলীগ বনাম ছাত্রশিবিরঃ
ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবিরকে নিয়ে লিখার আগে দেখে এই দুই সংবিধান কি বলে।
ছাত্রলীগ এর সংবিধানঃ

Click this link… http://bclru.weebly.com/constitution.html

Click this link… http://shibir.org.bd/page/content/4

উপরের দুটি সংবিধানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যাচাই করলে দেখা যায়

ছাত্রলীগের আদর্শ হিসেবে বাংগালী জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান কে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক দিক-নির্দেশনা মোতাবেক স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানের লক্ষ্যে সুশৃংখল কর্মী বাহিনীর সমন্বয়ে আদর্শ ভিত্তিক একটি সংগঠন গড়ে তোলা ও আদর্শিক পরিচর্যা অব্যাহত রাখা। দীর্ঘ সময়ের শিক্ষার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে একটি সহজলভ্য, বৈজ্ঞানিক, গণমূখী, বৃত্তিমূলক, কারিগরী, মাতৃভাষা ভিত্তিক সর্বজনীন শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে আর্থ- সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়া।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যর মধ্যে কোথাও ইসলাম শব্দটি নেই। ইসলাম এর ব্যাপারে কোন পরিকল্পনাও নেই। এদের মাদার রগানাইজেশন আওয়ামীলীগের সংবিধানের মূল লক্ষ্য হলো সেকুলারিজম, সজন্যই সে দলের সাধারন সম্পাদক বলে যে “আমি হিন্দু ও না , আমি মুসলমান ও না” অথচ এই দলের নেত্রী মাথায় কাপড় দিয়ে ইসলামের কথা বলে সরল মনা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে।

অপরদিকে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংবিধানের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ই হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা, যা তারা সংবিধানে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনে ধারণ করে সেই সংগ্রামে করে যাচ্ছে, এমনকি জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ দলটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির দ্বীন ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা যেমন মুখে বলে তেমনি তা তারা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের পাশাপাশি সমাজের প্রতিষ্ঠার লড়াই ও সংগ্রামে অবতীর্ণ যেটাই কিনা মুসলিমের প্রকৃত বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

মহান আল্লাহ তায়ালা সূরা আস-সফ্ এর ২-৪ নং আয়াতে মূলত এসব কথা বলেছেন।
“মুমিনগন তোমরা যা করা না , তা কেন বল? তোমরা যা কর না, তা বলা আল্লাহর কাছে খুবই অসন্তোষজনক।আল্লাহ তাদেরকে ভালবাসেন, যারা তাঁর পথে সারিবদ্ধভাবে লড়াই করে, যেন তারা সীসাগালানো প্রাচীর।”

কুরআনের আয়াতগুলোর সাথে ছা্ত্রলীগ ও আওয়ামীলীগের চরিত্র মিলে যায়, যা কিনা কপট মুসলিমের বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের কে এসব কপট মানুষ হতে দূরে রাখুক এবং সাধারন মানুষ যাতে এসব ভাওতাবাজদের প্ররোচনায় পড়ে নিজেদের ঈমান ও আমল নষ্ট না করে সেজন্য আমরা দোয়া করি।

একজন মুসলিম এর উচিত এসব বিষয় চিন্তা করা না হলে আমল সব বরবাদ হয়ে যাবে। অন্তত যেকোন ইসলামী দলে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করে হলে এসব কপট ধব্জাধারী মুসলিমদের সংসর্গ ত্যাগ করা উচিত। এতে ই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যান।

আল্লাহ আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে সঠিক বুঝ দান করুন।