জীবনের স্বার্থকতা কোথায়?

মানুষের জীবনের স্বার্থকতা কোথায় এটা ভেবে কোন কূল কিনারা করতে পারছি না। মনে মনে ভেবেছি যে আসলে জীবনটা কেন? এই যে ছোট থেকে বড় হওয়া। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কত সংগ্রাম, কত সাধনা কেন ই বা এতো কিছু? মানুষে মানুষে কেন ই বা এতো প্রতিযোগিতা? তারপর নিজের চোখের সামনে মা বাবার চলে যাওয়া এবং নিজেদের মৃত্যুর জন্য চেয়ে থাকা। এরকম নানা প্রশ্ন কেন জানি মনটাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। তারপর কত ধর্ম!, কত মত!, কত পথ!, সবাই নিজেদের শ্রেষ্টত্ব তুলে ধরার আপ্রান চেস্টা? কিন্তু আমরা কি সন্তুষ্ট থাকতে পারছি? কেন ই বা পারছিনা? বাংলা খবরের কাগজ খুললেই দেখি প্রতিদিন কত মানুষের কত রকমের যে মৃত্যু হচ্ছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। প্রশ্ন জাগে এসব মানুষের জীবনের অর্থ কি? মনেহয় খবরের কাগজের বিষয়বস্তু হওয়ার জন্য ই এদের জন্ম (?)। তারপর ও এসব জীবনের একটা স্বার্থকতা খুজে পাই যে এরা নিজের জীবন দিয়ে অন্তত বাংলার কিছু মানুষের (?) রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করে গেলেন। পত্রিকা মালিকের পেপারের কাটতি হবে, রাজনীতি বিদদের রাজনীতি হবে, টিভিতে টকশো হবে, কিছু বিবৃতি আসবে সব কিছুই হবে কিন্তু ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে না। কারন টা কি?

আসলেই কি আমরা মানুষকে নিয়ে ভাবি? আমরা কি আসলেই আদর্শিক রাজণীতিতে বিশ্বাসী? আমরা কি আসলেই গনতন্ত্রে বিশ্বাসী? আমরা কি আসলেই ইসলামী আন্দোলনে বিশ্বাসী? আমরা কি সবাই আমাদের নিজ নিজ আদর্শকে ধরন করতে পারছি? 

এসব পারিনা বলেই কি আমরা আমদের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য গলাবাজি করি? বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে এখানে যারা বাস করে তারা উতপত্তিগত ভাবে একই শ্রেনীর মানুষ। এদের বর্ণ ও এক। একই জাতির মানুষ। শুধু মাত্র রাজনৈতিক কারনে এত বেশি মৃত্যু বিশ্বের কোথাও বোধ হয় নেই। আর একটা বিষয় বাংলাদেশে যত বুদ্ধিজীবির বাস বিশ্বের কোন দেশে এরকম বুদ্ধিজীবির দেখা খুব কম পাওয়া যায়।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা না হলে নাকি একটা জাতি জাতিগত ভাবে উন্নতি লাভ করতে পারেনা। কিন্তু আমরা নিজেদের গনতন্ত্রমনা, মুক্তবুদ্ধির ধারক মনে করে কখন ও এর যথার্থ প্রয়োগ করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে শুরু করে এখন রাস্তার অলিগলি কোথাও আমরা রাজনৈতিক সহাঅবস্থান মেনে নিতে পারিনা। অর্থাত আমরা যা বলি তা আমরা বিশ্বাস করিনা। অথবা আমরা যা বলি তা আমরা বুঝিনা।

আমরা যদি মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থানে সত হওয়ার চেস্টা করি, আমরা যা বিশ্বাস করি তা বুঝে পালন করার চেস্টা করি। এবং মানুষ হিসেবে মানুষকে, মানুষের জীবনকে সন্মান করতে শিখি তাহলে আমরা জাতিগত ভাবে কিছুটা হলেও সভ্য হতে পারব। 

খুব দুঃখ হয় বাংলাদেশে মানুষ গুলো শান্তিতে মরতে ও পারেনা আর মরে ও শান্তি পায়না। কি আজব জাতি আমরা? আর আমরা কিনা নিজেদের নিয়ে খুব গর্ব করি। আসলেই কি গর্ব করার মত কিছু আমাদের।নাকি আমরা নির্বোধ বুঝতে পারিনা।

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s