তাবলীগঃ কিছু জিজ্ঞাসা ও বাস্তবতা। পর্ব-১

তাবলীগঃ কিছু জিজ্ঞাসা বাস্তবতা পর্ব

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ভ্রমনে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা ও সোনারবাংলাদেশ ব্লগে এক ব্লগারের লিখা আমাকে তাবলীগ এর ব্যাপারে জানতে আগ্রহী করে তুলে। মূলতঃ আমি সব মুসলিম ভাইদের ভালোবাসি। যারা ইসলামের কথা বলে আমার ভালো ই লাগে। তাবলীগের বিষয়ে জানার আগে আমরা ইসলামের বিষয়ে কিছু দরকারী বিষয় জেনে নেই ;

) ধর্ম (Religion)

অক্সফোর্ড ডিকশনারী সংজ্ঞা অনুযায়ী:

The belief in and worship of a superhuman controlling power , especially a personal God or gods: or ideas about the relationship between science and religion

or a particular system of faith and worship: the world’s great religions

or a pursuit or interest followed with great devotion:

consumerism is the new religion

ধর্মের এই ব্যাখ্যা অন্যান্য ধর্মের ক্ষেত্রে ঠিক হলেও ইসলাম এই ব্যাখ্যা সমর্থন করেনা। কারন ইসলামে শুধু বিশ্বাস করলেই চলবেনা, সেই বিশ্বাসের বাস্তব সাক্ষ্য থাকতে হবে। এবং জীবনের যে চলার পথ সেটা জগতের রব প্রদত্ত বিধান মত ই হতে হবে।আবার ইসলামে কোন অংশ মেনে কোন অংশ না মেনে চলাও গ্রহনযোগ্য না। আর এইজন্য ইসলামে চলার জন্য রয়েছে সংবিধান হিসেবে আল-কুরআন এবং এর ব্যাখ্যা হিসেবে আল- হাদীস।

) দ্বীনঃ

কুরআনের দ্বীন শব্দটি বিভিন্ন সূরায় ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করা হলো

“নিশ্চয় ইসলামই হচ্ছে আল্লাহর নিকট একমাত্র মনোনীত জীবন বিধান (আনুগত্যের বিধান)। (সূরা আল ইমরানঃ ১৯ নং আয়াত)

এখানে আল্লাহ মানব জাতির জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলাম কে মনোনীত করেছেন। সুতরাং ইসলাম কে যারা দ্বীন অর্থাৎ জীবন বিধান বা আনুগত্যর বিধান হিসেবে মেনে নিবে তারা ইসলামের অনুসারী হবে এবং তারা মুসলিম হিসেবে আখ্যায়িত হবে।

“তিনি (আল্লাহ ) যিনি তার রাসুলকে হেদায়াত ও আনুগত্যের সত্য বিধানসহ পাঠিয়েছেন যেনো উহা অন্যসব বিধানের উপর প্রতিষ্ঠা লাভ করে দেন, ( সূরা তওবাঃ ৩৩ নং আয়াত)

“আর নভোমন্ডল ও ভূ-মন্ডলে যা কিছু আছে সবই তার অধীন। আর অনিবার্যভাবে আনুগত্য তারই জন্য। ( সূরা আন নাহলঃ আয়াত ৫২)

দ্বীন শব্দটির পূর্ণ অর্থ হয় সত্য, সঠিক, নির্ভূল জীবন বিধান। আর পারিভাষিক অর্থে দ্বীন ইসলাম বলতে বুঝায় আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (সাঃ) প্রদর্শিত নির্ভূল জীবন বিধান যা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল দিক ও বিভাগগুলোকে মেনে চলতে হয়। আর সেটা যারা করে কুরআনের দৃষ্টিতে তারাই মুসলিম বা দ্বীনের অনুসারী।

 

) ইসলা্মঃ

ইসলামের খুব সুন্দর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে একটি বিখ্যাত হাদীস যা হাদীসে জিব্রাইল নামে পরিচিত সেটি উল্লেখ না করলেই নয়। হাদীসটির কয়েকটি লাইন উল্লেখ করছি।

“হযরত উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি আমাদের সামনে উপস্থিত হলেন। তার পরিধেয় বস্ত্র ছিলো ধবধবে সাদা এবং মাথার চুল ছিলো কুচকুচে কালো।অবশেষে তিনি রাসুল (সাঃ) এর নিকট বসলেন এবং নিজের দুই হাটু তার দুই হাটুর সাথে ঠেকিয়ে এবং নিজের দুই হাত তার দুই উরুর উপর রেখে বললেন , হে মুহাম্মদ ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি বললেনঃ ইসলাম হচ্ছে, তুমি সাক্ষ্য দিবে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) আল্লার রাসুল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত দিবে, রমযান মাসে রোজা রাখবে এবং হজ্জ্বে যাওয়ার সামর্থ্য থাকলে হজ্জ্ব করবে. আগুন্তক বললেন , `আপনি ঠিক বলেছেন`”।

সুতরাং ইসলাম হলো কতগুলো জিনিসের সামষ্টিক রূপ। কোন অংশে বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ ইসলাম কে কল্পনা করা যায় না। পরন্তু যারা আল্লাহ কে রব অর্থাৎ জগতের পালনকর্তা বলে সাক্ষ্য দিবে তাদের দ্বারা সেই পালনকর্তার রাজ্যে বসবাস করে তার বিধানকে অমান্য করার এখতিয়ার ও কারো নেই। বাংলাদেশে বসবাস করতে হলে যেমন বাংলাদেশের আইন মেনে চলতে হয়, নতুবা কারাগারের বদ্ধ কুঠুরী তার স্থান। তেমনি জগতের যিনি শাসনকর্তা তার বিধান কে অমান্য করে শুধু মৌখিক স্বীকৃতি দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। সেটা বাহ্যিক ভাবে মেনে চলতে হবে। না হলে তার শাস্তি তাকে পেতে হবে।

 

) বিদায়াতঃ

শরিয়াত মতে , আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে করা যা আল্লাহ আমাদের নির্দেশ দেননি অথবা এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করা যা রাসুন (সাঃ) অথবা তার সাহাবা (রাঃ)-রা করেননি।

বিদা্য়াতের বৈশিষ্ট্যঃ

সুতরাং বিদায়াত হচ্ছে সেটি :-

১) ইবাদতের পদ্ধতি / আত্নিক/ ধর্মীয় কাজ যা কুরআন ও সহী হাদিস দ্বারা প্রমানিত না।

২) যেটাকে ইসলামের অংশ মনে করে করা হয়।

৩) যা সওয়াবের মাধ্যম হিসেবে মনে করা হয়।

৪) সেগুলো করলে বাহ্যত কোন ক্ষতি দেখা যায় না।

৫) যেগুলোর ভিত্তি হলো জাল হাদিস যা প্রমান হিসেবে মেনে নেয়া যায় না।

৬)  প্রথাগত কোন অনুষ্ঠান যেগুলোকে ইসলামের মুখ্য অংশ মনে করা হয়।দায়াতঃ

                                                

Allah All Mighty says in the Quran:

“Today I Have completed for you your religion and perfected my favor upon you and have chosen Islam as your Religion”(Quran: 5:3)

‘A’isha reported Allah’s Messenger as saying: He who innovates things in our affairs for which there is no valid (reason) (commits sin) and these are to be rejected.

—Aisha, Translation of Sahih Muslim, Book 18: The Book Pertaining to Judicial Decisions (Kitab Al-Aqdiyya)

Allah’s Apostle said, “If somebody innovates something which is not in harmony with the principles of our religion, that thing is rejected.”

—Aisha, Translation of Sahih Bukhari, Book 49: Peacemaking

He who innovates or gives protection to an innovator, there is a curse of Allah and that of His angels and that of the whole humanity upon him.

—Muhammad (Peace be upon him), Translation of Sahih Muslim, Book 9: The Book of Divorce (Kitab Al-Talaq)

So whoever innovates in it an heresy (something new in religion) or commits a crime in it or gives shelter to such an innovator, will incur the curse of Allah, the angels and all the people,…

—Muhammad (peace be upon him), Translation of Sahih Bukhari, Book 80: Laws of Inheritance (Al-Faraa’id)

`Abd Allah ibn `Umar said: “Every innovation is misguidance, even if the people see it as something good.

Ibn ‘Abbaas also said: “Indeed the most detestable of things to Allaah are the innovations.

Sufyan Al-Thawri mentions: “Innovation is more beloved to Iblees than sin, since a sin may be repented from but innovation is not repented from” and “Whoever listens to an innovator has left the protection of Allaah and is entrusted with the innovation[“.

Al-Fudayl bin ‘Iyaad mentions: “I met the best of people, all of them people of the Sunnah and they used to forbid from accompanying the people of innovation”.

Hasan al-Basri mentions: “Do not sit with the people of innovation and desires, nor argue with them, nor listen to them”.

Ibraaheem ibn Maysarah mentions: “Whoever honours an innovator has aided in the destruction of Islaam.”

Al-Hasan ibn ‘Ali al-Barbahari mentions: “The innovators are like scorpions. They bury their heads and bodies in the sand and leave their tails out. When they get the chance they sting; the same with the innovators who conceal themselves amongst the people, when they are able, they do what they desire.”

Abu Haatim said: “A sign of the people of innovation is their battling against the people of Narrations.”

Abu ‘Uthmaan as-Saaboonee said: “The signs of the people of innovation are clear and obvious. The most apparent of their signs is their severe enmity for those who carry the reports of the Prophet.”

Muhammad ibn al Uthaymeen, a prominent modern-day scholar, wrote: “And there is no such thing in Islaam as bid’ah hasanah (good innovation).”

When a religious innovation is implemented, it is generally felt that the innovator is assuming that the Sunnah is not good enough, that he must resort to something “better.” Even though this statement would be an admission of disbelief – there are some innovations that contain shirk and there are some which allow someone to remain a Muslim, while his action is rejected (regardless of any sincerity it might have had).

বিঃদ্রঃ (বিদায়াত এর ইংশিল অংশটুকু কাট-কপি করা)

References:

http://en.wikipedia.org/wiki/Bid%E2%80%98ah

http://quran.com/16

http://www.islamieducation.com/en/ja-al-haq-beliefs-of-ahlesunnah/innovation-bidat-in-islam.html

http://www.islamieducation.com/en/ja-al-haq-beliefs-of-ahlesunnah/innovation-bidat-in-islam.htmlhttp://javeria.wordpress.com/2009/07/30/what-is-bidahinnovation-in-islam/

জীবনের স্বার্থকতা কোথায়?

মানুষের জীবনের স্বার্থকতা কোথায় এটা ভেবে কোন কূল কিনারা করতে পারছি না। মনে মনে ভেবেছি যে আসলে জীবনটা কেন? এই যে ছোট থেকে বড় হওয়া। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য কত সংগ্রাম, কত সাধনা কেন ই বা এতো কিছু? মানুষে মানুষে কেন ই বা এতো প্রতিযোগিতা? তারপর নিজের চোখের সামনে মা বাবার চলে যাওয়া এবং নিজেদের মৃত্যুর জন্য চেয়ে থাকা। এরকম নানা প্রশ্ন কেন জানি মনটাকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে। তারপর কত ধর্ম!, কত মত!, কত পথ!, সবাই নিজেদের শ্রেষ্টত্ব তুলে ধরার আপ্রান চেস্টা? কিন্তু আমরা কি সন্তুষ্ট থাকতে পারছি? কেন ই বা পারছিনা? বাংলা খবরের কাগজ খুললেই দেখি প্রতিদিন কত মানুষের কত রকমের যে মৃত্যু হচ্ছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। প্রশ্ন জাগে এসব মানুষের জীবনের অর্থ কি? মনেহয় খবরের কাগজের বিষয়বস্তু হওয়ার জন্য ই এদের জন্ম (?)। তারপর ও এসব জীবনের একটা স্বার্থকতা খুজে পাই যে এরা নিজের জীবন দিয়ে অন্তত বাংলার কিছু মানুষের (?) রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করে গেলেন। পত্রিকা মালিকের পেপারের কাটতি হবে, রাজনীতি বিদদের রাজনীতি হবে, টিভিতে টকশো হবে, কিছু বিবৃতি আসবে সব কিছুই হবে কিন্তু ঘটনার পুনরাবৃত্তি বন্ধ হবে না। কারন টা কি?

আসলেই কি আমরা মানুষকে নিয়ে ভাবি? আমরা কি আসলেই আদর্শিক রাজণীতিতে বিশ্বাসী? আমরা কি আসলেই গনতন্ত্রে বিশ্বাসী? আমরা কি আসলেই ইসলামী আন্দোলনে বিশ্বাসী? আমরা কি সবাই আমাদের নিজ নিজ আদর্শকে ধরন করতে পারছি? 

এসব পারিনা বলেই কি আমরা আমদের ব্যর্থতাকে ঢাকার জন্য গলাবাজি করি? বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে এখানে যারা বাস করে তারা উতপত্তিগত ভাবে একই শ্রেনীর মানুষ। এদের বর্ণ ও এক। একই জাতির মানুষ। শুধু মাত্র রাজনৈতিক কারনে এত বেশি মৃত্যু বিশ্বের কোথাও বোধ হয় নেই। আর একটা বিষয় বাংলাদেশে যত বুদ্ধিজীবির বাস বিশ্বের কোন দেশে এরকম বুদ্ধিজীবির দেখা খুব কম পাওয়া যায়।

মুক্তবুদ্ধির চর্চা না হলে নাকি একটা জাতি জাতিগত ভাবে উন্নতি লাভ করতে পারেনা। কিন্তু আমরা নিজেদের গনতন্ত্রমনা, মুক্তবুদ্ধির ধারক মনে করে কখন ও এর যথার্থ প্রয়োগ করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয় গুলো থেকে শুরু করে এখন রাস্তার অলিগলি কোথাও আমরা রাজনৈতিক সহাঅবস্থান মেনে নিতে পারিনা। অর্থাত আমরা যা বলি তা আমরা বিশ্বাস করিনা। অথবা আমরা যা বলি তা আমরা বুঝিনা।

আমরা যদি মানুষ হিসেবে নিজের অবস্থানে সত হওয়ার চেস্টা করি, আমরা যা বিশ্বাস করি তা বুঝে পালন করার চেস্টা করি। এবং মানুষ হিসেবে মানুষকে, মানুষের জীবনকে সন্মান করতে শিখি তাহলে আমরা জাতিগত ভাবে কিছুটা হলেও সভ্য হতে পারব। 

খুব দুঃখ হয় বাংলাদেশে মানুষ গুলো শান্তিতে মরতে ও পারেনা আর মরে ও শান্তি পায়না। কি আজব জাতি আমরা? আর আমরা কিনা নিজেদের নিয়ে খুব গর্ব করি। আসলেই কি গর্ব করার মত কিছু আমাদের।নাকি আমরা নির্বোধ বুঝতে পারিনা।

টিভি সংবাদ পাঠিকা হিসেবে নারী ও কিছু প্রশ্ন

টিভিতে সংবাদ পাঠিকা হিসেবে নারীদের প্রাধান্য বেশ লক্ষনীয়। সুন্দর ও স্মার্ট তরুনীদের চাহিদা খুবই বেশি। আমার প্রশ্ন হলো নারীদের সংবাদ পাঠিকা হিসেবে প্রাধন্য কি নারীদের বাণিজ্যিকিকরনের নামান্তর না? বিশেষ করে ইসলামি দলগুলোর পৃষ্ঠপোষকতায় যে টিভি চ্যানেল গুলো আছে সেগুলোতে নারীদের ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি? যদি কে্উ দাওয়াতী কাজের যুক্তি দেয়ার কথা ভাবেন তাহলে বলবো অসুন্দর মেয়েদের এখানে সুযোগ কম কেন? শ্রোতাদের চাহিদার কথা বলবেন? যদি উদ্দেশ্য হয় সংবাদ পাঠ আর শ্রোতার উদ্দেশ্য যদি হয় সংবাদ শোনা তাহলে সুন্দর আর অসুন্দরের মধ্যে বৈষম্য কেন? নাকি আমরা বানিজ্যিক স্বার্থে আপোষ করে নিয়েছি? যদি উদ্দেশ্য হয় ভাল চেহারা দিয়ে পাঠকদের আকৃষ্ট করা তাহলে প্রশ্ন এর কতটুকু ঠিক?

ইসলামী আন্দোলন এবং আমার কিছু ভাবনা ।

আল্লাহর দ্বীনকে আল্লাহর জমিনে প্রতিষ্ঠা করে শরীয়াত ভিত্তিক ইসলামিক সমাজ বিনির্মান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ই হলো ইসলামী আন্দোলনের (Islamic Movement) উদ্দেশ্য। ভুলোমনা মানুষকে সঠিক দিক নির্দেশনা দানের জন্য আদিকাল থেকেই এই কাজটি বিভিন্ন রুপে সম্পাদনের চেস্টা করা হয়েছে। আল্লাহর কিছু অনুগত বান্দা এর জন্য চেস্টা সাধনা করে গেছেন। আবির্ভাব হয়েছিলো নবী ও রাসুলগনে। নবী ও রাসুলগন আসার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আমাদের সামনে উপষ্থাপন করা হয়েছে অনূকরণীয় আদর্শ , পেশ করা হয়েছে উত্তম আদর্শ (উসওয়াতুল হাসানা)। আর সেই আদর্শ গুলোকে ধারন, প্রতিফলন এবং প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পড়েছে সেই আদর্শের ধারকদের দাবিদারদের উপর। এইসব আদর্শের পুর্ণাংগ উপস্থাপন এবং আল্লাহর দ্বীনের প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠা করতে যেয়ে তার বান্দাদের মধ্যে চিন্তার ও বুঝের ভারসাম্য থাকার কারনে বিভিন্ন মতের উদভাবন হয়। আর সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ইসলামী আন্দোলনের গতি-প্রকৃতির মধ্যে ও পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে “গনতন্ত্র” নামক তত্ত্বের উদ্ভাবন এবং বিশ্বব্যাপী এর ব্যাপক গ্রহন যোগ্যতার ফলে ইসলামী আন্দোলনের প্রকৃতি ও পদ্ধতির মধ্যে পরিবর্তন আসে। কিছুটা কৌশলের আশ্রয় নিয়ে গনতন্ত্র ও ইসলামী জীবন ব্যবস্থাকে সমন্বয় করার চেস্টা করা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে আদর্শিক মানুষ তৈরীর চেয়ে সংসদে যাওয়ার প্রচেস্টা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফলে মানুষ এ কারনেই সামাজিক প্রভাব-প্রতিপত্তি অর্জনকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সাথে এক করে ফেলছে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য এগুলোকে বেশি কার্যকর মনে করছে। এর ফলে মানুষ আদর্শিক আন্দোলনের চেতনা ও ঈমানী জযবা হারিয়ে ফেলছে এবং সত্য ও মিথ্যার প্রশ্নে আদর্শের দাবিদাররা আপোষহীন থাকতে/হতে পারছেনা। আর এটা পারছেনা বলেই ঈমানীবোধ সম্পন্ন মানুষের সামনে উত্তম আদর্শ পেশ করতে পারছেনা , মানুষকে নৈতিকতার প্রভাবে প্রভাবান্বিত করতে ব্যার্থ হচ্ছে।

বাংলাদেশের ইসলামী দলগুলোর আন্দোলন একটি শখের আন্দোলন, অপরিপক্ক চিন্তার অপরিনামদর্শী পদচারণা

ব্লগে ইসলামী আন্দোলন নিয়ে আলোচনা বেশ লক্ষ্যনীয়। আমার কাছে কেন জানি মনে হয় বাংলাদেশে ইসলামী আন্দোলনের কথা যারা বলে কিংবা যারা ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান উনাদের কেউ ই এই ব্যাপারে আন্তরিক না কিংবা না বুঝেই ইসলামী বিপ্লব বলে আত্নতৃপ্তি বোধ করেন। ইসলামের পথে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বা ইসলামকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করে আন্দোলনে যাবে নাকি আন্দোলনের মাধ্যমে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করবে তারপরে নিজেদেরকে খাটি মুসলিম তৈরীর কাজে আত্ননিয়োগ করবে সেটা ঠিক না করে পথ চলা শুরু করে দ্বিধাদ্বন্দ্বে দোদ্যুল্যমান এক নৌকা দিয়ে উত্তাল সমূদ্রপাড়ি দেওয়ার যে চিন্তা সেটাকে অপরিপক্ক চিন্তার অপরিনামদর্শী পদচারণা বললে মনে হয় অত্যুক্তি হবে না। ইসলাম নিয়ে আমাদের সঠিক ধারণা এবং আমাদের উদাসীনতা বাংলাদেশের মতো সম্ভাবনাময় ভূ-খন্ডে ইসলামী বিপ্লবকে বিলম্বিত করছে। কারন হিসেবে বলা যেতে পারে আল্লাহর সন্তুষ্টির সাথে ক্ষমতা আর সামাজিক অবস্থানের একাত্নকরণ। তাই দেখা যায় প্রতিপত্ত অর্জন কিংবা ক্ষমতা অর্জনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়। উসওয়াতুল হাসানা না হয়ে কেন্দ্রী্য় নেতা হও্য়ার প্রতিযোগিতা। পিএইচডি ডিগ্রী নিয়ে ড. হওয়ার ভাবনা। কি করে হবে বলেন? যখন আমরা টিভি চ্যানেল নিয়ে গর্বে আত্নহারা হই তখন মুসলিম ইয়াতীমরা ক্ষুধার জ্বালায় বিনিদ্র রজনী কাটায়। সংগঠনের টাকা দিয়ে যখন অট্টালিকা তৈরী হয় তখন টাকার অভাবে ইয়াতীমরা শিক্ষা থেকে ঝরে পরে। চীন-মৈত্রী সম্মলনে বসে যখন আমরা মাইক্রোফোনে পৃথিবী বদলে দেয়ার কথা বলি তখন ঢাকার রাজপথে ভুবুক্ষু ,শীর্ণ বস্ত্রধারী মানুষের পদচারণা আমাকে ভাবিয়ে তুলে যে আমরা কি ইসলাম কে বুঝতে পেরেছি…..? ইসলামী আন্দোলন করতে যেয়ে ভোটের ময়দানে বসে কর্মীরা যখন আলু খিচুরী খায় নেতারা তখন রেস্ট হাউসে বসে কোরমা পোলাও খায়…..তখন আমার সন্দেহ হয় নিজেকে নিয়ে ……ক্যাম্পাসে আমার পদ শব্দে যখন সংখ্যা লঘুরা সংকিত হয় তখন আমি আমাতে নিজেকে খুজে বেড়াই….

খুবই কষ্ট লাগে আমরা অনুসরন কিংবা অনুকরণ করার মতো আলেম খুজে পাইনা…..কষ্ট লাগে যে বিপ্লব বিপ্লব স্লোগান দিয়ে দিয়ে আমরা মানুষকে আকৃষ্ট করলাম সেই বিপ্লব ই আমাদেরকে মানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দিলো…..আজ নতুন করে স্লোগান তৈরী করতে হবে যে স্লোগান ইসলামের সুবাশ তৈরী করবে…যে স্লোগান এ হ্যামিলনের বাশীওয়ালার পিছে ইদুরের মতো নামবে মানুষের ঢল….
রক্ত রাংগা সিড়ি বেয়ে হয়তো বিজয় আশবে…..কিন্তু তার আগে নিজেকে প্রশ্ন করে ঠিক করে নিতে পারি সেটা কার বিজয়…?

তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু এবং আমার কিছু অনুভূতি

লেখাটি মিশুক মুনীরের ব্উয়ের মন্তব্যর প্রেক্ষিতে লেখা। তবে উনাকে রুপক ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

গত কয়েকদিনে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের মৃত্যু নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে। যেমনটি হয়নি ৪০ জন ছাত্রের মৃত্যুর পর। যেমনটি হয়নি জাহাজ ডুবিতে ১০০-১৫০ জন মানুষের মৃত্যুর পর। আমার ভাবতে অবাক লাগে যে আমি বা আমরা কেউ ই সাম্যে বিশ্বাস করিনা। হয়তো অনেকে বলবেন যে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দেশের সম্পদ । হয়তো তাই। কিন্তু যে ৪০ জন ছা্ত্র মারা গেলো তাদের মধ্যে থেকে ও হয়তো উনাদের চেয়ে বড় কেউ হতে পারত। জাহাজ ডুবিতে অনেক মানুষ মারা যায় , আমরা কিন্তু সেসব খেয়াল ই করিনা। সেখান থেকে তো বড় কেউ হতে পারত। কিন্তু অবাক করা বিষয় আমরা অনুভূতির সাম্যে বিশ্বাস করি না। আমরা মানুষের জীবন কে গরীব-ধনী ও নামী- বেনামীতে ভাগ করে ফেলেছি। আর তাই তারেক মাসুদের মৃত্যু আমাকে যেমন কাদায় , রহীমুদ্দিনের মৃত্যু আমাকে কাদায় না। মানুষকে পিটিয়ে যখন মারা হয় তখন আমরা চুপ করে থাকি আমরা ব্যাথিত হই না। আমাদের মানবিক অনুভূতিগুলো আসলে কমে গেছে।
আমাদের প্রধান সমস্যা আমরা বাস্তবতার চেয়ে আবগের দ্বারা বেশি প্রতাড়িত হ্ই। আমরা চিন্তার আগে সিদ্ধান্তে পৌছে যাই মতামত দিয়ে দেই।
তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দুজন ই দেশের সম্পদ। দেশ দুটি সম্পদ হারিয়েছে। অনেকেই ফেইসবুকে লিখার মাধ্যমে কান্নাকাটি করেছে। নায়ক ইলিয়াস কান্চন যখন নিরাপদ সড়কের জন্য ১০-১৫ বছর ধরে আন্দোলন করছে তখন দেশের কয়জন সম্পদ তার সাথে নিজেদের একাত্নতা ঘোষনা করেছে । আমি কারো সমালোচনা করবোনা শুধু বলবো আমরা একটু বেশি আবেগী। আর এই আবেগের কারনে আমরা বাস্তবতাকে হারিয়ে ফেলি।
টিভি ও চলচিত্র দুটি মাধ্যম ই অনেক শক্তিশালী মাধ্যম। দেশের মানুষকে সচেতন ও প্রভাবিত করার জন্য এদুটি মাধ্যম শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীর দুজনই এই দুই মাধ্যমের প্রভাবশালী মানুষ ছিলেন।
শুধু ড্রাইভার কে দোষ কেন, সরকারকে বা দোষ কেন। হ্যা উনাদের দোষতো অবশ্যই আছে তবে আমরা কম কিসে।
আমাদের একটি একটি করে ভোট নিয়েই কিন্তু সরকার গঠিত হয়। আর সরকারকে দ্বায়ী করলে পারত পক্ষে এটা বললে মনেহয় অযৌক্তিক হবে না যে আমরা নিজেরাই অনেকাশে দ্বায়ী।
একটি একটি মানুষ মিলে একটি একটি মিছিল, একটি একটি মানববন্ধন কই আমরা কি নিরাপদ সড়কের জন্য সোচ্চার?? রাজনৈতিক দলতো আমাদের নিয়ে ই হয়। গরু ছাগলরাতো আর মিছিলে যায় না??
মন্তব্যটি করেছি এজন্য যে উনি স্বজন হারিয়েছেন বলে বুঝেছেন যে কেমন লাগে। কিছুদিন আগে একসাথে ৪০ জন ছাত্র মারা গিয়েছিলো সেদিন কিন্তু উনার অনুভূতি কিন্তু ওরকম ছিলো না। হয়ত কিছুদিন পর দেখবেন উনিও হাসিনা অথবা খালেদার পাশে হাটছে। এমন ই হয়। তাই বলেছি চিপায় না পড়লে কেউ মুখ খুলেনা।

আমরা ৪০ বছর আগের যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে ব্যস্ত। যুদ্ধে কতজন মানুষ মারা গিয়েছিলো আর কারা ই বা মেরেছিলো তাও আজ মিমাংসিত না। কিন্তু স্বাধীনতার গত ৪০ বছরে গড়ে প্রতিদিনে ৩০ জন করে ধরলে ৪৪২০০০ জন মানুষ শুধু একসিডেন্ট আর খুনোখুনিতে মারা গেছে। আমরা কয়জন এসব নিয়ে কথা বলেছি???? যা প্রতিনি্যত আমাদের ভোগাচ্ছে যেটা নিয়ে কোন বিরোধ নেই। সেটা নিয়ে আমরা কিন্তু কেউ কথা বলিনা। কারন আমরা সুবিধাভোগী। আমরা এসব নিয়ে কথা বললে ক্ষমতাসীন দলের ছায়া পাবোনা।
তাই আমি কাউকে দোষ দেইনা। দোষ দেই নিজেকেই। আমি ই বা আমার দ্বায়ীত্ব কতটুকু পালন করি বা করেছি। আর কতটুকু ই বা করব। হয়ত বা এই লিখা পর্যন্ত শেষ। হয়তো একদিন আমি অথবা আমার কেউ মারা যাবে সেদিন আমি উনার মতো ই কাদবো। কিন্তু তারপর সব আগের মতো।
ফেইসবুকে এক ভাইয়ের পোষ্টে মন্তব্য করছিলাম তার প্রতিউত্তরে লিখতে বসে এতো কিছু লিখা। মিশুক মুনীরের স্ত্রীর মন্তব্যর লিংকে বলেছিলাম “যে উনি ঠিকই বলেছেন কিন্তু উনার কথাগুলো কিন্তু স্বামী হারানোর আগে বের হয়নি। আমরা কেউ ই চিপায় না পড়লে কিছু ই বলি না।

তাবলীগঃ কিছু জিজ্ঞাসা ও বাস্তবতা; পূর্ব কথা

মুসলিম ভাইদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। ব্লগে ইদানিং নব্য কিছু লোকের আগমন ঘটেছে। অনেকেই মুসলিম ভাইদের কাফের ও মুনাফিক বলে গালি দেয়। অনেকেই কথায় কথায় নাউযুবিল্লাহ বলে অপর মুসলিম ভাইদের অবজ্ঞা জ্ঞাপন করেন।তাবলীগের কিছু ভাইয়ের জামায়াতে ইসলামী, সালাফি ও আহলে হাদীস সহ অনেক ইসলামিক দলের লোকদের নিয়ে আপত্তিকর কথা বলেন যা একজন মুসলিম হিসেবে সত্যিই দুঃখজনক।দেশের ইসলামি ব্যক্তিত্বদের অপবাদ দেয়া সহ আরো অনেক খারাপ বিশেষনে বিশেষায়িত করা হয় , যা একজন মুসলিম ভাইয়ের কাছ থেকে কাম্য নয়। আমি ইসলামি সংগঠনের কর্মী হিসেবে ব্যক্তি অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। জাময়াতে ইসলামি বাংলাদেশ ও ইসলামি ছাত্র শিবিরের ভাইয়েরা, কোন মুসলিম ভাইকে অমুসলিম , কাফের বলে গালি দেয়না। যদি কেউ দিয়ে থাকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।
এসব ব্যক্তিগত আক্রমন ও তাবলীগী কিছু ভাইয়ের লিখা আমাকে এই লিখাটির জন্য মূলত অনুপ্রেরনা যোগায়। তাই আমি তাবলীগ নিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দেই, হাতের কাছে যেসব বই আছে সেসব বই, কুরআন হাদীস থেকে আমার কিছু জিজ্ঞাসা ব্লগের সন্মানিত ব্লগার ভাইদের কাছে তুলে ধরব। আমি একজন মানুষ ভূল হওয়া স্বাভাবিক, আপনারা লিখার মধ্যে কোন ভূল থাকলে সংশোধন করে দিবেন।

শিরক ব্যতীত অন্যকোন পাপকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিকে কাফির বলা যাবে না।
“আল্লাহ তার শরীক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না । এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন” (৪: ৪৮)

“মুমিনদের দু`দল দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দিবে”। (৪৯:৯) 
এখানে সংঘর্ষের পাপে লিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও, তাদের মুমিন বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
একজন মুসলিম ভাইকে অমুসলিম বলার এখতিয়ার কোন মুসলিম ভাইয়ের নেই, যতক্ষন সে আল্লাহ ও তার রাসুল (সাঃ) এর উপর ঈমান আনে এবং ইসলামের মৌলিক কাজগুলো করে।
আব্দুল্লাহ ইবন্ মুহাম্মাদ আল-মুসনাদী (রঃ)…..ইবন উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ আমি লোকদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য আদ্দিষ্ট হয়েছি, যতক্ষন না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই ও মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর রাসূল, আর সালাত কায়েম করে ও যাকাত দেয়। তারা যদি এ কাজগুলো করে তবে আমার কাজ থেকে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করল; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারন থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা।আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। ( বুখারী শরীফ ১ম খন্ড, কিতাবুল ঈমান অধ্যয়, ২৪ নং হাদীস)

ব্লগে অনেক ভাই মুসলিম ভাইদের বিভিন্ন ভাষায় গালি দিয়ে থাকে তা ব্লগের পরিবেশ তথা মুসলিম ভাইটির মনে রক্তক্ষরন করে।

মুহাম্মদ ইবনে আর`আরা (র) ….যুবায়দ (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আবূ ওয়াইল (র) কে মুরজিআ` সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) আমার কাছে বর্ননা করেছেন যে, নবী (সাঃ) ইরশাদ করেছেনঃ মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসিকী এবং তার সাথে লড়াই করা কুফরী। (বুখারী ১ম খন্ড,কিতাবুল ঈমান, ৪৭ নং)

অনেকেই আছে যারা অন্যদের তুচ্ছজ্ঞান করেন।
হারিসা ইবনে ওয়াহব্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছিঃ কোন ধরনের লোক বেহেশতী হবে আমি কি তা তোমাদের বলব না? প্রত্যেক দুর্বল ব্যক্তি যাকে লোকেরা শক্তিহীন ও তুচ্ছ জ্ঞান করে। সে যদি আল্লাহর উপর ভরসা করে শপথ করে , তবে আল্লাহ তা অবশ্যই পূর্ণ করার সুযোগ দেন।কোন প্রকৃতির লোক দোযখে যাবে তা আমি কি তোমাদের বলব না? প্রত্যেক নাদান-মূর্খ, উদ্ধত ও অহংকারী ব্যক্তি দোযখে যাবে। 
(রিয়াদুস সালেহীন, ১ম খন্ড ২১২ নং হাদীস)

অনেকই যুক্তিতে না পেরে গালি গালাজ শুরু করে দেয়।
কাবীসা ইবনে উকবা (র)…..আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সাঃ) বলেন চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে সে হবে খাটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকবে তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১) আমানত রাখা হলে খেয়ানত করে ; ২) কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩) চুক্তি করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪) বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়।( বুখারী ১ম খন্ড, কিতাবুল ঈমান, ৩৩ নং হাদীস)।

অনেকই আছেন যারা অপর ভাইয়ের পেশকৃত দলীলকে অবজ্ঞা করে ছল চাতুরীর আশ্রন নেন এবং নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করার মিথ্যার আশ্রয় নেন।
“আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে কখন ও পছন্দ করেন না যে নিজ ধারনায় অহংকারী এবং নিজেকে বড় মনে করে আত্নগৌরবে বিভ্রান্ত”” ( সূরা আন নিসাঃ ৩৬) 

অনেকেই মাওলানা মওদূদী ও জামায়াতে ইসলামির নেতাদের নিয়ে খারাপ কথা বলেন। 

মহান আল্লাহ বলেনঃ “যারা ঈমানদার নর-নারীদের কষ্ট দেয় এমন কোন অপরাধের জন্য যা তারা করেনি, তারা মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে” ( সূরা আল-আহযাবঃ ৫৮)।

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুল (সাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমরা কি জান কোন ব্যক্তি নিঃস্ব-গরীব? সাহাবাগন বলেন, আমাদের মধ্যে গরীব হচ্ছে যার অর্থ-সম্পদ নেই। তিনি বলেনঃ আমার উম্মাতের মধ্যে সবচেয়ে নিঃস্ব-গরীব ব্যক্তি হবে, যে কয়ামতের দিন নামায-রোযা-যাকাত ইত্যাদি যাবতীয় ইবাদতসহ আবির্ভূত হবে।কিন্তু সে কাউকে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো মাল আত্নসাত করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে মেরেছে ( সে এসব গুনাহ ও সাথে করে নিয়ে আসবে), এদেরকে তার নেক আমলগুলো দিয়ে দেয়া হবে। উল্লেখিত দাবিসমূহ পূরণ করার পূর্বেই যদি তার নেক আমল ও শেষ হয়ে যায় তবে দাবিদার গুনাহসমূহ তার ঘাড়ে চাপানো হবে, অতঃপর তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে।
(রিয়াদূস সালেহীন ১ম খন্ড, ২১৮ নং হাদীস)

ব্লগে সবাই শালীন ভাষায় নিজেদের যুক্তি মতামত তুলে ধরতে পারে সুন্দর ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে যা ব্যক্তি আক্রমন বর্জিত। বাঙ্গালী জাতির লোকদের বড় সমস্যা হলো সবাই নিজেদের বড় ভাবেন। মওদূদী বাদ বলে ইসলামে কোন মতবাদ আছে কিনা আমার জানা নেই। জামায়াত শিবিরের লোকজন কখনই এরকম কোন মতবাদের কথা বলেনা । অন্তত আমি শুনিনি। যা বলে কোরআন ও হাদীস থেকে আলোচনা করে। এরমধ্যে মাওলানা মওদূদী (রহঃ) নিয়ে হীন উদ্দ্যেশে ব্লগে ব্যক্তি আক্রমন নিতান্তই দুঃখ জনক। আর সেসব প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসে জামায়াতে ইসলামী যা কিনা বাংলাদেশের অন্যতম ইসলামিক শক্তি সেটার গায়ে কালিমা লেপনের অপপ্রয়াস, ঘৃণ্য যুক্তি কথা মুসলিম হিসেবে নীরবে মেনে নেওয়া খুবই কঠিন। তাই ব্লগের মডারেটরদের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। দেশের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী পরিষদ সদস্য যেমন দেশের সন্মানিত ব্যক্তি তেমনি দেশের আলেম সমাজ ও সবার কাছে সন্মানিত ব্যক্তি। সুতরাং ব্যক্তি আক্রমন মূলক পোষ্ট, পোষ্টে গালি গালাজ, ইসলামী ব্যক্তিত্বদের নিয়ে ছবি বিকৃতি, নামের বিকৃতি এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্লগারকে নোটিশ পাঠনোর অনুরোধ করছি। ইসলামি কোন বিষয়ে কেউ অযথা ফেতনা তৈরী করতে উদ্যত হলে আপনারা আপনাদের ঈমানীচেতনা বোধ থেকে নোটিশ পাঠাবেন এটাই আমরা কামনা করি।

সবাইকে যুক্তি তর্কে, মুনাফিক, কাফির, অমুসলিম, ছাগু, এসব শব্দ পরিহার করার অনুরোধ করছি।

আসুন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সহ সব রাজনৈতিক দলকে পরিহার করে আমরা নতুন একটা দল করি নাম দেই “স্বতন্ত্র পার্টি”

দেশ সামনে না হেটে পেছনে হাটা শুরু করছে এই আওয়ামী বিএনপি খেলা আর ভালো লাগছে না। তাই তরুণ সমাজকে আহ্বান জানাই আমরা একটি নতুন দল গঠন করি। যেটার নাম হবে “স্বতন্ত্র দল”।
আঞ্চলিক রাজনৈতিক লক্ষ্য ই হবে দলটির সামগ্রিক লক্ষ্য। নিজ নিজ অঞ্চলের লোকজন নিজদের নেতা নির্বাচন করবে এবং সব আঞ্চলিক নেতা মিলে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন হবে। আঞ্চলিক নেতারা সেটা প্রতাক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করবে। এটা যদিও প্রচলিত পদ্ধতির মতো কিন্তু দলের কেন্দ্রীয় কাঠামো না থাকায় কোন রাজনৈতিক বিশৃংখলা হবেনা। সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ব্যক্তিগত ভাবে সত হতে হবে। আর প্রার্থী নির্বাচনের জন্য একটি কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিষদ থাকবে। যার সদস্য হবে দেশের গ্রহনযোগ্য ও জ্ঞানী দেশপ্রেমিক ব্যক্তিরা।

সব আঞ্চলিক নেতা রা নিজ নিজ অঞ্চল থেকে নির্বাচন করে নির্বাচিত হলে সেই সব স্বতন্ত্র নির্বাচিত সাংসদ রা সবাই মিলে সরকার গঠন করবে। এবং

সংবিধানের অনেক পরিবর্তন আনতে হবে।
মূলনীতি
১) ন্যায়বিচার ।
২) রাষ্ট্রের এককভাবে কোন ধর্মীয় বি্শ্বাস থাকবে না, তবে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা শব্দটিও রাখা যাবে না , বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা শব্দটি যুক্ত থাকবে।
৩) কোন মতবাদ ই থাকবে না, বরং সম্পদের সুষম বন্টন , ও মানবতাবোধকে অগ্রাধীকার ভিত্তিতে অর্থ ব্যবস্থার বিন্যাস করতে হবে।
৪) সামগ্রিক ভাবে ব্যক্তি অধিকার কে সন্মান প্রদর্শন ই হবে রাষ্ট্রীয় মুলনীতি।

রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস আর সামাজিক শোষন ও অবিচার হাত থেকে মানবতাকে রক্ষা কল্পে আজকের তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। আসুন আমরা কোন দলে আবদ্ধ না থেকে দেশকে নিয়ে একটু মুক্তভাবে চিন্তা করি। আমরা সবাই সবাইকে সন্মান করতে শিখি। কাউকে অযথা গালি গালাজ, মিথ্যা দোষারোপ থেকে নিজেদের বাচিয়ে সকটি সার্বজনীন সমাজ বিনির্মান করি। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যক্তিগত উদ্যাগ একটি সফল সামাজিক আন্দলনের রূপ দান করে। আমরা গ্লোবাল ফ্যামিলি কনসেপ্ট কে ধারন করে সামনে এগিয়ে যাই। গ্লোবাল ফ্যামিলি কনসেপ্ট এর মূল স্লোগান হবে আপনার ভাই, আমার ভাই ও আপনার বোন ,আমার বোন। আমরা নিজেদের ফ্যামিলিকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যাই আসুন আজ আমরা আমাদের নিজের মহল্লা , থানা তথা নিজেদের সমাজকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাই।

Hello world!

Welcome to WordPress.com. After you read this, you should delete and write your own post, with a new title above. Or hit Add New on the left (of the admin dashboard) to start a fresh post.

Here are some suggestions for your first post.

  1. You can find new ideas for what to blog about by reading the Daily Post.
  2. Add PressThis to your browser. It creates a new blog post for you about any interesting  page you read on the web.
  3. Make some changes to this page, and then hit preview on the right. You can always preview any post or edit it before you share it to the world.